হতভাগা নেকড়ে

মূল রুশ থেকে অনুবাদ: হীরেন্দ্রনাথ সান্যাল

অনুবাদ সম্পাদনা: অর্দ্ধেন্দু গোস্বামী

এক হতভাগা নেকড়ে। খিদেয় তার প্রাণ যায় যায়। কোথাও কোনো শিকার জুটছে না। এক চাষির কাছে গেল সে খাবার চাইতে। ভাব দেখাল যেন সে কতই কাহিল! বলল, ‘দয়া করো চাষি! আমায় কিছু খেতে দাও, নইলে খিদেয় প্রাণ যে যায়।’

চাষি বলল, ‘তোকে কী খেতে দেব?’

‘যা দেবে তাই খাব।’

‘ঐ যে মাঠে পাদ্রির ঘোড়াটা চরে বেড়াচ্ছে, তোকে দেখে পালাবে না। তুই তাকেই খেয়ে ফেল।’

তপ্ তপ্ করতে করতে নেকড়ে তাড়াতাড়ি চাষির কাছ থেকে ছুটে ঘোড়ার কাছে গেল। গিয়ে বলল, ‘ভালো আছ ঘোড়া ভায়া! চাষি আমায় হুকুম দিয়েছে তোমাকে খেয়ে ফেলতে।’

‘তুমি এমন কে বটে হে যে আমায় খাবে?’

সে বলল, ‘আমি নেকড়ে।’

‘না, মিছে কথা বলছ—তুমি কুকুর!’

সে বলল, ‘ভগবানের নামে বলছি, আমি নেকড়ে।’

‘বেশ, নেকড়েই যদি হও, তা হলে আমার শরীরের কোন দিক থেকে তুমি খেতে শুরু করবে?’

সে বলল, ‘কেন, মাথা থেকে!’

ঘোড়া বলল, ‘হ্যাঁ, নেকড়েই বটে! তা আমাকে খাবে যদি ঠিক করেই থাকো, শুরু করো আমার লেজ থেকে। যতক্ষণে তুমি আমার অর্ধেকটা খেয়ে ফেলবে, আমি ততক্ষণে প্রাণ ভরে ঘাস খেয়ে নেব। আর তুমিও পেটটি ভরে আমায় খাবে।’

নেকড়ে বলল, ‘বেশ, ভালো কথা, তাই হবে।’ আর সে তক্ষুনি ছুটে গেল লেজের দিকে। যখনই নেকড়ে লেজ ধরে টান মেরেছে, অমনি ঘোড়াটা পা ছুঁড়ে নেকড়ের চোয়ালে খুরের এমন এক চাট মারল যে নেকড়ে বুঝতেই পারল না সে বেঁচে আছে কি না...

আর ঘোড়া, সে ধুলোর ঝড় তুলে ছুটল। নেকড়ে তখন বসে বসে ভাবছে, ‘আচ্ছা বোকা তো আমি? গলা কামড়ে ধরলাম না কেন?’

ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে সে আবার গেল চাষির কাছে খাবার চাইতে। গিয়ে বলল, ‘দোহাই চাষি! যা হোক কিছু খেতে দাও, নইলে যে খিদেয় মারা যাই।’

চাষি বলল, ‘তা হলে ঘোড়াটাকে খেয়ে তোর পেট ভরেনি?’

নেকড়ে কঁকিয়ে উঠল। বলল, ‘জ্যান্ত ওর গা থেকে চামড়া খুলে তাই দিয়ে যদি বেল্ট বানানো যেত! খেতে পারা দূরে থাক, উল্টো আমার চোয়ালটাই চুরমার হয়ে গেছে!’

চাষি বলল, ‘আচ্ছা, তাই যদি হয়, তবে যা, ঐ যে মোটা-সোটা একটা ভেড়া খাড়াইয়ের ওপর চরে বেড়াচ্ছে, তুই গিয়ে ওটাকে খেয়ে ফেল।’

নেকড়ে চলল। খাড়াইয়ের ওপর ভেড়া চরছে।

নেকড়ে বলল, ‘ভালো তো ভেড়া ভাই?’

‘ভালো।’

‘চাষি আমায় হুকুম দিয়েছে তোমাকে খেয়ে ফেলতে।’

‘তুমি এমন কে বটে হে, যে আমায় খাবে?’

‘আমি নেকড়ে।’

‘মিছে কথা—তুমি কুকুর!’

সে বলল, ‘না, ভগবানের নামে বলছি, আমি নেকড়ে।’

‘নেকড়েই যদি হও তো কীভাবে আমায় খাবে?’

‘কীভাবে খাব? কেন, মাথা থেকে শুরু করব!’

ভেড়া বলল, ‘হ্যাঁ, নেকড়েই বটে! যদি ভেবেই থাকো যে আমায় খাবে, তা হলে বরং খাড়াইয়ের কিনারে এসে হা করে দাঁড়াও, আমি নিজেই তোমার মুখে লাফিয়ে পড়ছি।’

নেকড়ে খাড়াইয়ের ঠিক কিনারাতে এসে চোয়াল দুটো ফাঁক করে হা করে দাঁড়াল। ভেড়া তেড়ে এসে নেকড়ের মাথায় এমন ঢুঁ মারল যে, নেকড়ে খাড়াই থেকে গড়িয়ে পড়ে গেল। খাওয়াটা তার ভালোই হল!

বেচারা বসে কাঁদতে লাগল, ‘আচ্ছা, আমি কী বোকা! না, মাথাটাই আমার খারাপ হয়েছে? কে কোথায় দেখেছে জ্যান্ত শিকার মুখে লাফিয়ে এসে পড়ে?’

সে ভাবছে আর ভাবছে। আবার গেল সে চাষির কাছে খাবার চাইতে। বলল, ‘দয়া করো চাষি! যা হোক একটা কিছু খেতে দাও, নইলে যে খিদেয় মারা যাই।’

চাষি বলল, ‘কেমন খাইরে বাপু! তুই চাস খাবার তোর মুখে এসে পড়ুক। যাক গে, তোর সঙ্গে আর কী

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice